দুনিয়াতে আল্লাহই সমস্যা দিয়েছেন, সেই সাথে আল্লাহই সমস্যা সমাধানের পথ খুলে দিয়েছেন। মুলতঃ মানুষের জীবনে অশান্তি আসতে পারে, অকল্যাণ আসতে পারে, তা থেকে মুক্তির জন্য তথা শান্তি কল্যাণের লক্ষ্যে কোরান ও হাদীস এবং ওলি কামীলদের আমল পর্যালোচনায় দুইটি পদ্ধতি উল্লেখ করা হলোঃ ১) দান-সাদকা এবং ২) দোয়া (যেমন-খতমে খাজেগান, খতমে তাসমিয়া, খতমে তাহলিল ইত্যাদি)।
১) দান-সাদকাঃ
হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে "দোয়া ছাড়া অন্য কিছু তকদির (বা ভাগ্য) পরিবর্তন করতে পারে না এবং নেক আমল (যেমন: দান-সদকা ও পিতা-মাতার সেবা) ছাড়া অন্য কিছু হায়াত বা আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে না।" — (সুনানে ইবনে মাজাহ ও সুনানে তিরমিজি; বর্ণনায়: হজরত সাওবান (রা.) ও হজরত সালমান ফারসি (রা.)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দুইজন ফেরেশতা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হন। একজন দোয়া করেন:
"হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দিন।" আর অন্যজন বলেন: "হে আল্লাহ! কৃপণের সম্পদ ধ্বংস করে দিন।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেটি, যা নিয়মিত করা হয়; যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।" (সহিহ বুখারি)
উক্ত হাদীস ২টির আলোকে প্রতিদিন সকালে সামান্য হলেও ( যেমন-১ টাকা, ৫ টাকা বা খুব সামান্য কিছু) দান-সাদকা করার মাধ্যমে নিয়মিত আমল হিসাবে শুরু করুন- যা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হিসাবে ইহকালে শান্তি ও পরকালের মুক্তির পথ সোপান হবে-ইনশাল্লাহ্।
উক্ত আমলের গুরুত্বঃ
সকালে উঠে দান করার মাধ্যমে আমরা মূলত একজন ফেরেশতার বিশেষ দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হই।
দানকারীর লাভ: ফেরেশতা দোয়া করেন যাতে তার সম্পদে বরকত হয় এবং তা বৃদ্ধি পায়।
বিপদ থেকে রক্ষা: হাদিসে আছে, সাদকা বিপদ-আপদ দূর করে। তাই দিনের শুরুটা সাদকা দিয়ে হওয়া মানে সারাদিনের জন্য আল্লাহর হেফাজতে থাকা।
ইসলামে আমলের পরিমাণের চেয়ে নিয়মিত আমলের গুরুত্ব বেশি।
সহজসাধ্য: প্রতিদিন ১ টাকা বা ৫ টাকা বা ১০টাকা বা ৫০ টাকা বা ১০০ টাকা দান করা কারো জন্যই কঠিন নয়। কিন্তু এই ছোট আমলটি যখন সারা বছর বা সারাজীবন নিয়মিত করা হয়, তখন আল্লাহর কাছে এটি বিশাল বড় নেক আমল হিসেবে গণ্য হয়।
অভ্যাস গঠন: প্রতিদিন অল্প দানে অভ্যস্ত হলে মানুষের ভেতর থেকে কৃপণতা দূর হয় এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বাড়ে।
দান বা সাদকা বক্স (Sadaqah Box): ঘরে একটি ছোট বাক্স বা মাটির ব্যাংক রাখতে পারেন। প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বা নামাজের পর সেখানে ১ টাকা হলেও রাখুন। মাস শেষে সেই টাকা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা এতিমখানা বা অভাবী কাউকে দিয়ে দিন।
ডিজিটাল মাধ্যম: প্রতিদিন একটি দানের পরিমান লিখে রাখুন, মাসের শেষে হিসাব করে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমেও চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব।
পরিবারের সবাইকে সম্পৃক্ত করা: সন্তানদেরও এই অভ্যাস শেখানো যেতে পারে, যাতে তারা ছোটবেলা থেকেই দানশীল হওয়ার শিক্ষা পায়।
বিঃদ্রঃ খিতমতে দ্বীন ও ইনসান ফান্ড, খানকায়ে হযরত শাহজালাল (রহ.), মাসুদিয়া মজলিস, আশেক-থেকে একটি দাতা সদস্য হলে আপনাকে একটি আইডি দেওয়া হবে। সেই আইডি-র বিপরীতে প্রতিদিন সামান্য সামান্য দান একটি ডাইরিতে লিখে রেখে মাসের বিকাশ বা নগদে ফরম পৃরণের মাধ্যমে ০১৫৪৫৬৬১৫৫ পাঠান, আপনার দান দ্বীনের খেদমত ও আর্ত-মানবতার সেবায় ব্যয় হবে-ইনশাআল্লাহ.।
একদা হযরত সুলাইমান (আ.)-এর রাজদরবারে একটি জিন এসে অভিযোগ করল। সে বলল, "হে আল্লাহর নবী! অমুক যুবকটি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট গাছে ওঠে এবং সেখানে থাকা পাখির বাসা থেকে ডিম বা বাচ্চা পাড়ে। এতে পাখিরা খুব কষ্ট পায়। আমি চাই আপনি তাকে বাধা দিন, নতুবা আমি তাকে কোনো এক সময় গাছ থেকে ফেলে দিয়ে শাস্তি দেব।"
সুলাইমান (আ.) যুবকটিকে ডেকে সতর্ক করলেন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় হোক বা অন্য কোনো কারণে, যুবকটি পুনরায় সেই গাছে উঠল। জিনটি ওত পেতে ছিল তাকে গাছ থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর সুলাইমান (আ.) দেখলেন যুবকটি অক্ষত অবস্থায় নিচে নেমে আসছে। তখন তিনি সেই জিনটিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি তো বলেছিলে তাকে গাছ থেকে ফেলে দেবে, কিন্তু সে তো সুস্থভাবে নেমে এলো?"
জিনটি লজ্জিত হয়ে বলল:
"হে আল্লাহর নবী! আমি তাকে গাছ থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। সে যখন গাছের মগডালে উঠল, ঠিক তখন নিচ দিয়ে একজন ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক যাচ্ছিল। যুবকটি তার জামার পকেটে থাকা একটি রুটি বের করে সেই ভিক্ষুককে দান করে দিল। ভিক্ষুকটি প্রাণভরে তার জন্য দোয়া করল। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি দেখলাম, আল্লাহ দুজন ফেরেশতা পাঠিয়েছেন যারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে অনেক দূরে সরিয়ে দিলেন এবং যুবকটিকে নিরাপত্তা দিয়ে নিচে নামিয়ে আনলেন। তার সেই একটি রুটি দান এবং ভিক্ষুকের দোয়ার কারণে আল্লাহ তার অবধারিত মৃত্যু বা বড় দুর্ঘটনা রুখে দিলেন।"
দান ও সদকা দুর্ঘটনা রোধ করে: যুবকটি জিনের হাত থেকে বা গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার মতো নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল কেবল একটি রুটি সদকা করার মাধ্যমে।
বিপদের মুহূর্তে দান: যুবকটি তখন বিপদে ছিল না, কিন্তু তার অজান্তেই একটি বড় বিপদ আসছিল। ওই সময় দান করার ফলে তার তকদিরে পরিবর্তন আসে।
দোয়ার শক্তি: ভিক্ষুকটি যে দোয়া করেছিল, সেটিই মূলত আল্লাহর রহমতকে ত্বরান্বিত করেছিল।
২) দোয়া
দোয়া মানে আল্লাহর নিকট চাওয়া। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট আশা না করা। আল্লাহর অলিগণের নিকট সবচেয়ে পাছন্দনীয় এবাদত হচ্ছে দোয়া। তাঁরা নিজদের সব আশা-আকাঙ্খা আল্লাহর নিকট পেশ করে থাকেন। কোরানের আয়াত ও হাদিসের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, মোমিন ও সৎকর্মশীল,ইখলাসের গুন গুনাম্বিত,আল্লাহর পবিত্র সত্ত্বার পরিচিত অর্জনকারী সর্বপরি পরহেজগার বান্দাদের দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। তাই বুজর্গানে দীন একক বা কয়েকজন সালেককে নিয়ে খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে ইউনুস ইত্যাদি পাঠ করে দোয়া করতেন।
হাঁ, আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে যে কোন বিপদ-আপদ, বালা-মসিবত তথা প্রতিকুল পরিস্থিতিতে তরিকত পন্থি পরহেজগার বান্দাদের মাধ্যমে খতম করান, দ্বীন-দুনিয়ার শান্তি ও কল্যাণ আসবে-ইনশাল্লাহ !!
দোয়া সংক্রান্ত কোরান হাদীসের তথ্য এবং বিভিন্ন খতমের নিয়ম ও ফজিলত সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন-
বিভিন্ন খতম পড়ার ফযিলত ও আমল এর নিয়মঃ
প্রিয় সুধী, উপরোক্ত কোরানের আয়াত ও হাদিসের আলোকে বলা যায় যে, মোমিন ও সৎকর্মশীল,ইখলাসের গুন গুনাম্বিত,আল্লাহর পবিত্র সত্ত্বার পরিচিত অর্জনকারী সর্বপরি পরহেজগার বান্দাদের দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। তাই বুজর্গানে দীন একক বা কয়েকজন সালেককে নিয়ে খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে ইউনুস ইত্যাদি পাঠ করে দোয়া করেন। খতমসমূহ পড়ার ফযিলত ও আমল সম্পর্কে নিন্মে আলোচনা করা হলোঃ
১) খতমে তাহলিল পড়ার ফযিলত ও আমল এর নিয়মঃ ( যথাশীঘ্র সম্ভব প্রকাশ করা হবে।)
২) খতমে খাজেগান পড়ার ফযিলত ও আমল এর নিয়মঃ (যথাশীঘ্র সম্ভব প্রকাশ করা হবে।)
৩) খতমে ইউনুস পড়ার ফযিলত ও আমল এর নিয়মঃ- (যথাশীঘ্র সম্ভব প্রকাশ করা হবে।)
মোমিন ও সৎকর্মশীল,ইখলাসের গুনে গুনাম্বিত,আল্লাহর পবিত্র সত্ত্বার পরিচিত অর্জনকারী সর্বপরি পরহেজগার বান্দাদের মাধ্যমে খতম করুন-আপনার জীবনে শান্তি ও কল্যাণ আসবে-ইনশাল্লাহ।