মাসুদিয়া মজলিস-আশেক
"নবীজির সুন্নাহর আলোয় আলোকিত জীবন"
খানকায়ে শাহজালাল রহ.
(জিকির-তাসাউফ, ঈমান-আমল)
ক্লিক করুন-
খিদমতে দ্বীন ও ইনসান
(দোয়া-দান, শান্তি-কল্যাণ)
ক্লিক করুন-
প্রধান স্লোগান: ‘‘পীর যার যার, তরিকত মজলিস সবার’’
"মাসুদিয়া মজলিস-আশেক" সকল তরিকতের সালেকদের (আধ্যাত্মিক পথসন্ধানী) জন্য একটি উন্মুক্ত সামাজিক ও আধ্যাত্মিক প্ল্যাটফর্ম। এই মজলিসের মূল লক্ষ্য হলো ফিকহ্ বা বাহ্যিক (জাহেরী) শরীয়তের বিদ্যার পাশাপাশি 'এলমে ক্বালব' বা তাসাওউফ (আত্মশুদ্ধি) বিদ্যার প্রসার ঘটানো, যাতে মুসলমানগণ সঠিক দ্বীন-ইসলামে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশ করতে পারেন।
জাহেরী ইবাদতের পাশাপাশি তাসাওউফ বা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সৎ স্বভাব অর্জন এবং অসৎ স্বভাব বর্জন করাই হলো সিরাতুল মুস্তাকীমে (সহজ-সরল পথ) পরিচালিত হওয়ার মূল চাবিকাঠি। আর এই পথ অনুসরণের মাধ্যমেই অর্জিত হবে পরকালীন মুক্তি এবং ইহকালে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নেমে আসবে কাঙ্ক্ষিত শান্তি।
শাহসূফী খন্দকার হারুন অর রশিদ-এর প্রথম পীর ও মুরশিদ ছিলেন পীরে মোকাম্মেল আলহাজ্ব শাহসূফী মাওলানা মাসুদ আহমেদ (রহ.) [সিলেট]। জন্ম: ২৬শে ডিসেম্বর, ১৯৬৪ খ্রি. — ইন্তেকাল: ২৪শে মে, ২০২১ খ্রি.।
পীর সাহেবের ওফাতের পর, জনাব খন্দকার হারুন অর রশিদ তাঁর শায়েখের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, মহব্বত ও আত্মিক ভালোবাসার তাগিদে এবং পীরের আদর্শের উত্তরসূরী হিসেবে "মাসুদিয়া মজলিস-আশেক" গঠন করে তরিকতের মেহনত শুরু করেন। তাসাওউফ সংক্রান্ত বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বস্তরে আত্মশুদ্ধির আলো ছড়িয়ে দেওয়াই এই মজলিসের মূল অঙ্গীকার।
বায়াত গ্রহণ: ১০ই মে, ২০১১ খ্রি. তারিখে তিনি পীরে মোকাম্মেল আলহাজ্ব শাহসূফী মাওলানা মাসুদ আহম্মদ (রহ.)-এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেন।
তরিকতের শিক্ষা ও খেলাফত: দীর্ঘ ৬ বছর পীরের সহবতে থেকে তাঁর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া, ক্বাদেরিয়া, চিশতিয়া, শায্লিয়া এবং সোহরাওয়ার্দী—এই মহান তরিকাগুলোর ছবক পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করেন। পরবর্তীতে ১০ই মার্চ, ২০১৭ খ্রি. ঢাকার মিরপুরস্থ হযরত শাহজালাল (রহ.) খানকা শরীফে এক আনুষ্ঠানিক মাহফিলে তাঁকে খেলাফত ও পাগড়ী প্রদান করা হয়।
শরীয়তের জ্ঞান অর্জন: এলমে শরীয়ত ও তরিকতের গভীর জ্ঞান অন্বেষণে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞ আলেম-ওলামাদের সহবতে মূল্যবান সময় অতিবাহিত করেন।
পরবর্তী আধ্যাত্মিক অগ্রগতি: শায়েখের ইন্তেকালের পর তরিকতের আমলের কামাল নিসবত (উচ্চতর আত্মিক সম্পর্ক) হাসিলের লক্ষ্যে তিনি 'আল-গাউস ডাঃ বদিউজ্জামান (রহ.)' কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মদিনা জামাতের বর্তমান আমির কুতুবুল ইরশাদ আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা ছাহেবের অধীনে তালিম গ্রহণ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২৬শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রি. (শুক্রবার) ঢাকার মিরপুর-১১ অবস্থিত মদিনা জামাতের খানকা শরীফে তাঁকে পুনরায় খেলাফত প্রদান করা হয়।
বিশেষ ফয়েজ অর্জন: এছাড়া তিনি ফুরফুরা দরবার শরীফের ঢাকা জেলার তৎকালীন মুবাল্লিগ হাকীম মোঃ মোসলেহ্ উদ্দীন (রহ.)-এর থেকেও তরিকতের শিক্ষা ও ফয়েজ লাভ করেন।
বিভিন্ন তরিকতের ছবক—যেমন যিকির, মোরাকাবা ও মোশাহাদার মাধ্যমে বিশেষ তত্ত্বজ্ঞান (মারিফাত) অর্জনের পর, শাহসূফী খন্দকার হারুন অর রশিদ ছাহেব সকল তরিকার মূল কথা ও সারসংক্ষেপ একত্রিত করে অতি সহজ নিয়মে সালেকদের তাসাওউফ (আত্মশুদ্ধি) শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।
সালেকগণ যাতে সঠিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তরিকতের পথ অতিক্রম করতে পারেন, সেজন্য শাহসূফী খন্দকার হারুন অর রশিদ রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ ‘‘তাসাউফে সুলুক ও জজবা’’ মজলিসের সালেকদের তালিম ও তরিকতের আমল-আখলাক শিক্ষার মূল সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এই সহজ আমল ও নির্দেশনাসমূহের মাধ্যমে একজন সালেক নিম্নোক্ত আধ্যাত্মিক সুফলসমূহ লাভ করতে পারেন:
আত্মিক পরিবর্তন: মজলিসের দেওয়া সহজ আমল ও তালিমের মাধ্যমে সালেকগণ সহজেই হৃদয়ে ঈমানের নতুন সজীবতা, সুকুন এবং গভীর অনুভূতি লাভ করতে পারবেন।
ক্বালবী যিকির: নিয়মিত চর্চা ও ফয়েজের বরকতে সালেকের ক্বালবে (অন্তরে) স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহান আল্লাহর যিকির জারি হয়ে যায়।
নিসবত হাসিল: এর মাধ্যমে বান্দার সাথে মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ ও নিবিড় আধ্যাত্মিক সম্পর্ক (নিসবত) গড়ে ওঠে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মনে রাখা আবশ্যক যে, বাহ্যিক ইবাদতের সাথে আধ্যাত্মিক নিসবত বা মহান আল্লাহর সাথে অন্তরের জীবন্ত সংযোগই কেবল আল্লাহর দরবারে পূর্ণাঙ্গ কবুলিয়াত ও প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা এনে দিতে পারে।
উল্লেখ্য কর্মময় জীবনে জনাব খন্দকার হারুন অর রশিদ-অফথ্যালমোলজীকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি), মিরপুর-২, ঢাকায় সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।
সময় বসে থাকে না। কর্মের সাথে সাথে অবশ্যই ধর্ম পালন করতে হবে-কখন যে এই ইহ জীবনের ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হতে চলবে, মালাকুল মউত হাজির হয়ে যাবে, আমরা কেই এই সময়টির কথা বলতে পারব না। এই ইহজীবন মুছাফিরের জিন্দেগি। আমাদেরকে চলে যেতে হবে হবেই এবং সবার মূল ঠিকানা আখেরাত (পরকাল)-
‘ইহাঁ হামছব মুছাফের হাঁয় ওহী আ-খের ঠিকানা,কুইআগে রওয়ানা হায় কুই পীছে রওয়ানা;এ দুনিয়ায় থাকার জায়গা না।’
“চলে যেতে হবে ভুবন ছেড়ে, কি করছরে মন এ ভুবনের তীরে; এ পৃথিবী মুছাফিরের বিচরন, ক্ষনকালের ইহ ভুবনে আছি কিছুক্ষন, ওরে মন আসল যে পরজনম।”
ঢাকাস্থ মিরপুরে মাসিক মাহফিলঃ
প্রতি মাসের ২য় বৃহস্পতিবার বাদ আছর বড়বাগ, মিরপুর-২, খানকায়ে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এ মাসিক মাহফিলে যিকিরের তালিম, তাওয়াজ্জোহ প্রদান করেন।
নিজ এলাকা চাটখিল ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা সমূহে মাহফিলঃ
সূফী ছাহেব নিজ এলাকা চাটখিল-চিতোষী রোড, শোল্লায় তরিকতের তালিমি মাহফিল করেন। তাছাড়া চাটখিলসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলায় মসজিদ, মাদ্রাসা বা অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানে দিন-ক্ষন নির্ধারণ পূর্বক মাসুদিয়া মসলিস-আশেক এর ব্যানারে মাহফিল করেন।
ঢাকাস্থ মিরপুর-২ খানকায়ে হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মোতওয়াল্লী ও খাদেম মোহাম্মদ ইমান আলী লিটন ( চিশতি ) ছাহেবকে মিরপুর এলাকার ছালেক ও জাকেরানদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। দীর্ঘ একদশক থেকে নিবেদিত হয়ে মিরপুর খানকার কার্যক্রমে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন; তাই আমরা তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং সেই সাথে তাঁহার মা-বাবা,ভাই-বোন, বিবি ছেলে মেয়ে সর্বপরি পরিবারের সবার সার্বিক কল্যাণ করছি। কামনায়-মিরপুর এলাকার সালেকগণ।
ক্বালব বা অন্তর পরিশুদ্ধিতে করুন ইবাদত, নিরুপণ করুন ইমান; ইহকালের শান্তি, হবে পরকালে কল্যাণ। মানব জাতির কল্যাণের ধর্ম দ্বীন-ইসলাম !!
–শাহ্সূফি খন্দকার হারুন অর রশিদ।